বিশ্ব পৌঁছেছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রথম বড় সংকটসীমায়। এর ফলে মানবজাতি এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। সোমবার (১৩ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল টিপিং পয়েন্টস রিপোর্ট’ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উষ্ণ পানির কারণে প্রবালপ্রাচীর দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে। যার ওপর বিশ্বের প্রায় একশ কোটি মানুষের জীবিকা ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের এক-চতুর্থাংশ নির্ভরশীল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানো না গেলে এসব প্রবাল টিকে থাকবে না। অল্প কিছু দিনের মধ্যে প্রবালভূমি বিলুপ্তি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা। বিশ্ব তাপমাত্রা যখন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা ছোঁয়ার পথে, তখনই এ সতর্কতা এসেছে।
গবেষকদের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে সামনে আরও ধ্বংসাত্মক সঙ্কটসীমা যেমন-আমাজন রেইনফরেস্ট ধ্বংস, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া ও অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের মূল স্রোত ব্যবস্থা (এএমওসি) ভেঙে পড়বে। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি, খাদ্য সংকটসহ নিত্য নতুন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।
বিশ্বের ২৩ দেশের ৮৭ প্রতিষ্ঠানের ১৬০ বিজ্ঞানীর করা এই প্রতিবেদন আরও বলা হয়, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে যত অল্পই তাপমাত্রা বাড়ুক পৃথিবীর ওপর বিপর্যয়কর ঝুঁকি তত বাড়বে।
নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩০ কে সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বিজ্ঞানীরা দ্রুত দেশগুলোকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
তাদের মতে, টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ‘পজিটিভ টিপিং পয়েন্ট’ বা দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন-বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক চুক্তি ও কাঠামো আকস্মিক ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত নয়। দ্রুত নিঃসরণ হ্রাস, কার্বন অপসারণ এবং অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি কাঠামোতে সঙ্কটসীমাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রতিবেদনে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মানজানা মিলকোরেইট মনে করেন, সঙ্কটসীমা এড়াতে হলে শুরু থেকেই শক্তিশালী প্রশমন কৌশল নিতে হবে। যাতে তাপমাত্রা সীমা অতিক্রমের সময়কাল ন্যূনতম থাকে।
ব্রাজিল কপ-৩০ এর সভাপতিপক্ষ ইতোমধ্যে ‘গ্লোবাল মুতিরাও’ উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে বিভিন্ন খাতকে জলবায়ু পদক্ষেপে যুক্ত করা যায়। মনোনীত সভাপতি অ্যাম্বাসেডর আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো বলেন, মানবজাতি এখনও পরিবর্তনের পথ বেছে নিতে পারে এ প্রতিবেদনে তার বাস্তব ও আশাব্যঞ্জক প্রমাণ মিলেছে।



