Monday, May 11, 2026
Google search engine
Homeবাণিজ্যএক রাতেই নিভে গেল খামারির স্বপ্ন আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ায় রহস্যময় প্রাণীর আক্রমণে মারা...

এক রাতেই নিভে গেল খামারির স্বপ্ন আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ায় রহস্যময় প্রাণীর আক্রমণে মারা গেল ৬০টি মুরগি

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গাঃ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কোনো শব্দ শোনা যায়নি। ঘুমিয়ে ছিল পুরো পরিবার। কিন্তু সেই নীরব রাতেই যেন অদৃশ্য এক আতঙ্ক নেমে আসে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার কলেজপাড়ার একটি ছোট্ট খামারে। সকালে ঘুম ভাঙতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—মুরগির ঘরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে একের পর এক মৃত মুরগি। মুহূর্তেই যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় খামারি গোলাম মোস্তফার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন।
শুক্রবার গভীর রাতে কোনো এক রহস্যময় হিংস্র প্রাণী খামারের নেট কেটে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৬০টি মুরগিকে হত্যা করে। সকালে পরিবারের সদস্যরা মুরগির ঘরে ঢুকেই হতভম্ব হয়ে যান। চারদিকে শুধু মৃত মুরগির স্তূপ আর রক্তাক্ত পালকের ছাপ। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন খামার মালিকের স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান, ছোট পরিসরে গড়ে তোলা এই খামারই ছিল পরিবারের আয়ের অন্যতম ভরসা। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা আর ভবিষ্যতের কিছু স্বপ্ন—সবকিছুই জড়িয়ে ছিল এই খামারকে ঘিরে। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন যেন ধুলোয় মিশে গেল।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কারণ সম্প্রতি আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় কুকুরের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতে দলবদ্ধ কুকুর ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুকুরের আক্রমণে মানুষ আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে দিন দিন।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে পৌরসভার উদ্যোগে কুকুর নিয়ন্ত্রণ বা নিধন কার্যক্রম চোখে পড়লেও গত দেড় বছরে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কুকুরের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জনমনে আতঙ্কও।
খামারি গোলাম মোস্তফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“অনেক কষ্ট করে মুরগিগুলো বড় করেছিলাম। ভাবছিলাম এগুলো বিক্রি করে সংসারে একটু স্বস্তি আসবে। কিন্তু সকালে উঠে দেখি সব শেষ। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো বুঝতে পারছি না।”
ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসঙ্গে পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একটি রাত, কয়েক মিনিটের তাণ্ডব, আর তাতেই শেষ হয়ে গেল একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও আশা। কলেজপাড়ার সেই ছোট্ট খামারে এখন শুধু নীরবতা—আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine
Google search engine

Most Popular

Recent Comments