বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ আবারও ৯ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ ও অতিরিক্ত পর্যটন চাপ কমানোর লক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
পরিবেশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা
পরিবেশবিদদের মতে, অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে সেন্টমার্টিনের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ও প্রবালপ্রাচীর মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে দ্বীপের পর্যটন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্বীপের বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার করা না গেলে এটি স্থায়ীভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের হতাশা
সেন্টমার্টিনের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও হোটেল-মোটেল মালিকরা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন। দ্বীপের প্রায় ৯০% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন,
“আমাদের পুরো জীবন চলে পর্যটনের ওপর। ৯ মাস দ্বীপে পর্যটক না থাকলে আমরা কীভাবে চলব? সরকার যদি আমাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বহু পরিবার অভাব-অনটনে পড়বে।”
পরবর্তী করণীয় ও সরকারি উদ্যোগ
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৯ মাসে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করা হবে এবং বিকল্প পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু সহায়তা প্যাকেজের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সেন্টমার্টিনের অর্থনীতি রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নেবে।



