যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে আসে।
এক ভারতীয় সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, “বাংলাদেশের বিষয়ে আপনার অভিমত কী? কারণ এটা স্পষ্ট যে বাইডেন প্রশাসনের আমলে মার্কিন ডিপ স্টেট বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি, মুহাম্মদ ইউনূসও জুনিয়র সরোসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?”
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ডিপ স্টেটের এখানে (বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে) কোনো ভূমিকা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এটা নিয়ে (ভারত) শত শত বছর ধরে কাজ করছে। বস্তুত, আমি এরকমই পড়েছি। কাজেই বাংলাদেশের বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দেব।”
এরপর তিনি পাশে বসা নরেন্দ্র মোদির দিকে তাকান। তবে মোদি এই প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য না করে আলোচনা অন্যদিকে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে বিক্ষোভ চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের সমর্থিত বিভিন্ন বাহিনীর ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের সম্মুখীন করতে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।
মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে অর্থনৈতিক, সামরিকসহ দ্বিপাক্ষিক নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়। ভারতের কাছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি দুই নেতা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।
এই বৈঠকটি মোদির যুক্তরাষ্ট্রে দশম সফর এবং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন চতুর্থ সফর। ২০১৪ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে মোদি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং মোদির নীরবতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।



