বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ’ ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার কুমিল্লা শহরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে বসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে ছয় দফা দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে—কারিগরি শিক্ষার স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্টে স্বচ্ছতা।
একজন আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছি, অথচ আমাদের দাবিগুলো বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
ঘটনাস্থলে পৌঁছানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষে কয়েকজন ছাত্র, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ পথচারী আহত হন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুমিল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



