বিশেষ প্রতিনিধি, কথা নিউজ ২৪
ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬,৫৩১ জন শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদ উদ্দিন।
ডিপিই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থেই এই আপিল করা হয়েছে। যদি হাইকোর্টের রায় কার্যকর হয়, তাহলে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকটে পড়বে, যা শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে সমস্যা সৃষ্টি করবে।
কেন বাতিল হয়েছিল নিয়োগ?
হাইকোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে ৬,৫৩১ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম ও আইনি জটিলতা ছিল। তবে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই রায়ের সঙ্গে একমত নয় এবং তাই উচ্চ আদালতে আপিল করেছে।
শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘ পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর আকস্মিকভাবে নিয়োগ বাতিলের রায় তাদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
একজন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “আমরা সব নিয়ম মেনে নিয়োগ পেয়েছি। এখন আমাদের চাকরি চলে গেলে পরিবার চালাবো কিভাবে?”
বিশ্লেষকদের মতামত
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের আইনি জটিলতা নতুন কিছু নয়, তবে দ্রুত সমাধান না হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, যেসব বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ডিপিই আশা করছে, আপিল আদালতে তাদের পক্ষে রায় আসবে এবং বাতিল হওয়া নিয়োগ পুনর্বহাল হবে। আপিলের শুনানি কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষই উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
কথা নিউজ ২৪ ডিজিটাল



