মোহাম্মদ ইউসুফ ,রংপুর জেলা প্রতিনিধি:
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রংপুর (স্থানীয় সময় সকাল ১০:০০
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার গড়ের মাতা চৌরাস্তার মোড়ে আজ ভোররাত ৬টায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘন কুয়াশার মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ৭টি বাস ও ২টি টাটা গাড়ি। এ ঘটনায় বহু যাত্রী ও চালক-সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
**ঘটনার বিস্তারিত:**
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৬টার দিকে গড়ের মাতা চৌরাস্তার মোড়ে প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে। এ সময় চৌরাস্তা অতিক্রম করার সময় একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি বাসের সাথে ধাক্কা দেয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে পাশের লেনে চলাচলরত ৫টি বাস ও ২টি টাটা পরিবহন একে অপরের ওপর গিয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গাড়িগুলো। ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রী আটকে পড়েন, যাদের উদ্ধারে স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন রোগীর প্রাণঘাতী আঘাতের খবর মিলেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কুয়াশার মাত্রা অত্যধিক হওয়া সত্ত্বেও সড়কে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল।
**কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:**
মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ঘটনার কারণ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছি।”
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের টিম সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আহতদের বাঁচানোর। তবে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।”মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কুয়াশা ও গাড়ির অতিরিক্ত গতিকে দায়ী করা হলেও চালকদের অসতর্কতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। কুয়াশা ও ধ্বংসস্তূপ সরাতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “এমন ভয়াবহ দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হচ্ছিল।বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু রংপুর বিভাগেই ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৭ জন প্রাণ হারান। বিশেষজ্ঞরা কুয়াশাজনিত দুর্ঘটনা রোধে সড়কে আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থা (যেমন ফগ লাইট, স্পিড ক্যামেরা) ও চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।গড়ের মাতার এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তায় অবহেলার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। প্রশাসন ও জনসচেতনতার সমন্বয়ে এ ধরনের ট্র্যাজেডি রোধে জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছেন সকল স্তরের মানুষ।



