বিশেষ প্রতিনিধি, কথা নিউজ ২৪
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল ও মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। যদিও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে গিয়ে ভোক্তারা চড়া দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিয়ন্ত্রিত মূল্য কোথায়?
ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকার সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করলেও অনেক খুচরা বিক্রেতা তা মানছেন না। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বাড়ার পেছনে আমদানিকারক ও মিল মালিকদের মনোপোলির অভিযোগ উঠেছে।
একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হলেও দোকানে গেলে বেশি দাম রাখতে চায়। কোনো কোনো জায়গায় বলা হয়, তেল নেই। অথচ পরে দেখা যায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।”
সরবরাহ ঘাটতি, নাকি কৃত্রিম সংকট?
ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলার সংকট ও আমদানিতে জটিলতার কারণে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই চিত্র মসলাজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ফল ও অন্যান্য মসলা সামগ্রীর দাম ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার সময় এসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান
এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বাজার মনিটরিং বাড়াবো। কেউ যদি অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। অন্যথায়, রোজার সময় প্রতিবারের মতো এবারও সাধারণ মানুষকেই ভোগান্তির শিকার হতে হবে।



