পাগলি পান চিবুচ্ছে, সেই সঙ্গে হাসছে। কোলে নবজাতককে আদর ছাড়াও মাঝে মধ্যে চুমু খাচ্ছে। কেউ সন্তানকে কোলে নেয়ার আগ্রহ দেখালে আগলে রাখছে। কেউ বলছেন, তিন দিন আগে, আবার কেউ বা বলছেন, পাঁচদিন আগে জন্ম নিয়েছে ছেলে সন্তান। মহাসড়কের পাশে একটি গাছের নিচে বসে রয়েছে। আশপাশে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের ব্যাগ। মশা-মাছি ভনভন করছে। উৎসুক লোকজন দেখছেন। করছেন নানা প্রশ্ন। কেউ জানতে চাইছেন এই সন্তানের পিতা কে? আবার কেউ জানতে চাইছেন কতোদিন আগে জন্ম নিয়েছে। নামই বা কি। এতসব প্রশ্নে জর্জরিত হলেও পাগলি সকলের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তবে জানাতে পারেননি তার সন্তানের বাবার পরিচয়। গতকাল সকালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল থানার সামনে। মানসিক ভারসাম্য হারানো নারীর কোলে জন্ম নেয়া নবজাতকের লালন-পালন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেউ ওই নারীর পরিচয় জানে না। তবে অনেকে তার নাম ময়না বলে জানান। তবে তা আসল নাম নাকি এমনিতেই প্রচলন হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নবজাতকের বাবার পরিচয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয়রা জানান, এই মেয়েটি মাস তিনেক আগে সন্তান-সম্ভবা হয়ে এদিক সেদিক ঘুরতো। এরপর অনেকেই নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় দেখতে পেয়েছেন। এরপর গত দু’দিন ধরে ফের নান্দাইল সদরে আগমন ঘটে। এখন কোলে নিয়ে আছেন নবজাতককে। কোথায় সন্তান প্রসব করেছে জানতে চাইলে শুধু হাসে। আর একেক সময় একেক কথা বলে। মানবজমিনের প্রতিবেদক কথা বলার চেষ্টা করে তার সঙ্গে। নাম কি রেখেছেন জানতে চাইলে বলেন, শুক্কুইরা। এই সন্তানের বাবা কে জানতে চাইলে পাগলি উপস্থিত সকলকে ইশারা দিয়ে দেখায়। আর ওই সময় উচ্চস্বরে হাসতে থাকে। এসময় উপস্থিত অনেকেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান। ওই সময় এক নারী সন্তানকে একবার নেয়ার আগ্রহ দেখালে পাগলি রাগান্বিত হয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেন। তখন আরও জোরেশোরে সন্তানকে নিজের পরণের জামার ভেতরে প্রবেশ করান। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার বলেন, ওই নারীকে খোঁজ করে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে।



