নাজমুল করিম রাসেল, সহকারি বার্তা সম্পাদক:
স্টকহোম, সুইডেন, ৩০ জানুয়ারি ২০২৫:* সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত ইরাকি বংশোদ্ভূত সালওয়ান মোমিকা (৩৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানী স্টকহোমের কাছে সোদারতালজি শহরে নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
সালওয়ান মোমিকা গত কয়েক মাস ধরে সুইডেনে একাধিকবার কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় আলোচিত ছিলেন। তার এসব কর্মকাণ্ড ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করেছিল। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোমিকার বাড়িতে গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় পায় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এখন ঘটনার কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
মোমিকার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু মহল তার কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তার মৃত্যু কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অন্যদিকে, কিছু মহল তার কর্মকাণ্ডকে ইসলামবিদ্বেষী ও ঘৃণামূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।
সুইডেনে গত কয়েক মাস ধরে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সুইডিশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মোমিকার মৃত্যু সুইডেন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই ঘটনায় মোমিকার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং দ্রুত ঘটনার সত্যতা ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছে।



