যুদ্ধবিরতির আওতায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস গতকাল মঙ্গলবার আরও দুজন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছেন। একই দিনে ইসরায়েল ১৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মরদেহ ফেরত দিয়েছে। তবে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেন। কারণ, এখনো মিসরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাফা সীমান্তটি নতুন করে খুলে দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে হস্তান্তর করা হয় দুই ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত হয় বুধবার ভোর নাগাদ। তাঁরা হলেন ৮৫ বছর বয়সী বেসামরিক নাগরিক আরিয়ে জালমানোভিচ ও ৩৮ বছর বয়সী সেনাসদস্য তামির আদার।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বলেছে, গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহগুলো প্রথমে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা মরদেহগুলো ইসরায়েলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছেন, আরিয়ে জালমানোভিচ ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর গাজায় জিম্মিদশায় মারা যান। আর তামির আদার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে নিহত হন। পরে তাঁর মরদেহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মোট ১৫ জন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। চুক্তির আওতায় তাদের আরও ১৩ জন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা। তবে হামাসের দাবি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং গাজার কিছু অংশে এখনো ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় মরদেহ উদ্ধারের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতির শুরুতে হামাস এক দিনে ২০ জীবিত বন্দীকেও মুক্তি দিয়েছিল।
ইসরায়েলে আটক থাকা অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ গতকাল গাজায় ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা সূত্র বলছে, মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের জন্য নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল তাদের কারাগার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার জীবিত ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। তারা আরও ৩৬০ মৃত ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের ফেরত দেওয়া প্রায় ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ পরীক্ষা করেছে ফরেনসিক দল। ওই দলের সদস্যরা বলেছেন, কিছু মরদেহে তখনো শিকল বাঁধা ছিল এবং মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা হত্যার শিকার।



