চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুন মাস নাগাদ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশেষ বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, “বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সুদের হার ও মূদ্রাস্ফীতির সমন্বয় রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করা হবে।”
বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভোক্তাবান্ধব নীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সময়সীমার মধ্যে এ লক্ষ্য পূরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় হ্রাস ও বাজার তদারকি অপরিহার্য।
কথা নিউজ ২৪-এর জিজ্ঞাসায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি ও সার বাবদ ভর্তুকি বাড়ানোসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা হবে।” সংশোধিত বাজেটে এসব খাতে বাড়তি বরাদ্দের ইঙ্গিত মিলেছে।
বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৯.৫ শতাংশের ঘরে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে চাল, ডাল, তেল ও প্রাণিজ আমিষের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। নতুন এ পরিকল্পনায় ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরবে কি না, সে প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের।



