যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বা ‘কোনো রাজা নয়’ শিরোনামে আয়োজিত সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা করা হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আওতায় লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে শিকাগোসহ বিভিন্ন বড় শহরে দুই হাজারের বেশি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দেশজুড়ে চলমান সরকারি অচলাবস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীয় সেনা মোতায়েনের মধ্যে এই বিক্ষোভগুলো সংঘটিত হলো। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয় নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই ‘নো কিংস’ সমাবেশের অন্যতম আয়োজক।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগ দিয়ে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘আজ লাখ লাখ আমেরিকান এখানে এসেছেন, কারণ তারা আমেরিকাকে ঘৃণা করেন এমনটা নয়। আমরা এখানে এসেছি কারণ আমরা আমেরিকাকে ভালোবাসি।’
কর্তৃত্ববাদের উত্থানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে স্যান্ডার্স সরাসরি ট্রাম্পের নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘আজ ২০২৫ সালে, আমেরিকার ইতিহাসের এই সংকটময় মুহূর্তে, আমাদের বার্তা একই। না, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমরা আপনাকে বা অন্য কোনো রাজাকে আমাদের শাসন করার সুযোগ দেবো না। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বজায় রাখব। আমরা আমেরিকায় কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসর হব না।’
সিনেটর ক্রিস মারফি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন ‘স্বৈরাচারী’ নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বৈরাচারী শাসনের দ্বারপ্রান্তে নই, আমরা এর মধ্যেই আছি। তবে ট্রাম্প এখনো জয়ী হননি।’ ট্রাম্পকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে মারফি আরও বলেন, গণতন্ত্র ‘বিপদের মধ্যে থাকলেও একে রক্ষা করা সম্ভব।’
এসিএলইউ-এর প্রধান রাজনৈতিক ও প্রচার কর্মকর্তা ডিড্রা শিফেলিং সমাবেশে বলেন, স্বাধীনতা রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো ‘স্বাধীনভাবে কাজ করা’। তিনি বলেন, ‘আজ আপনাদের সঙ্গে এখানে থাকতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। আমরা সবচেয়ে দেশপ্রেমমূলক এবং আমেরিকান কাজটি করছি: শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আমাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার প্রয়োগ করছি।’
এদিকে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপের অনেক বড় শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে শুক্রবার হাউস স্পিকার মাইক জনসন ‘নো কিংস’ সমাবেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই আয়োজনকে উগ্র বামপন্থী কর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, এটি আমেরিকানবিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার আমেরিকানদের এই সমাবেশে সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ প্রতিবাদ করার এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি নিউইয়র্ক শহরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে পদযাত্রায়ও অংশ নেন।
আয়োজকরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে এই বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ হবে। রিপাবলিকান নেতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির যে দাবি করা হয়েছে, তা তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।



