বিশেষ প্রতিনিধি | কথা নিউজ ২৪
ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাত তীব্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। চলমান খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যাংকগুলোর অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রয়োজনে কিছু ব্যাংক একীভূত করার পরিকল্পনা করছে।
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র
সূত্র মতে, ২০১১ সালে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৬.১২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১৬.৯৩ শতাংশে। এ হার বৃদ্ধির কারণে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিগত সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের ফলে অন্তত ১০টি ব্যাংক বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে না আনলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যাংক খাত একীভূতকরণের উদ্যোগ
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR)-এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। যদি কোনো ব্যাংকের অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে তা এককভাবে টিকে থাকা কঠিন হয়, তাহলে সেসব ব্যাংককে অন্য সুস্থ ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক উন্নত দেশেই ব্যাংক একীভূতকরণের মাধ্যমে আর্থিক সংকট মোকাবিলা করা হয়। বাংলাদেশেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর চাপ কমবে এবং আর্থিক খাত স্থিতিশীল হবে।
অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত কয়েক বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
একজন ব্যাংক বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে শুধু একীভূতকরণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
পরবর্তী করণীয়
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) বাস্তবায়ন
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ পরিকল্পনা
খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে কড়া পদক্ষেপ
ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে সংস্কারের পরামর্শ দিচ্ছে।
সাধারণ জনগণের উদ্বেগ
ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে, যারা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে আমানত রেখেছেন, তারা তাদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে।
(আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন কথা নিউজ ২৪-এর আপডেট প্রতিবেদনে)



