বিশেষ প্রতিনিধি | কথা নিউজ ২৪
মস্কো: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগদানের জন্য রাশিয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
৯ মে মস্কোয় উদযাপন
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৯ মে মস্কোতে আয়োজিত এই স্মরণসভায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অংশ নেবেন। ঐতিহাসিক এই দিনটি রাশিয়ায় “ভিক্টরি ডে” নামে পরিচিত, যা প্রতি বছর মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়।
রাশিয়া-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের প্রতিফলন। গত কয়েক বছরে উভয় দেশই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে।
রাশিয়া ও চীন উভয়েই বিশ্ব রাজনীতিতে বহুপাক্ষিকতার পক্ষে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল নাৎসি জার্মানির প্রধান প্রতিপক্ষ। ১৯৪৫ সালের ৯ মে সোভিয়েত বাহিনী বার্লিন দখল করে এবং জার্মানির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইউরোপে যুদ্ধের অবসান ঘটে।
এ বিজয়ের স্মরণে প্রতি বছর রাশিয়ায় বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রাজনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণ শুধু স্মরণসভার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাশিয়ার সঙ্গে চীনের শক্তিশালী সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বর্তমানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সমর্থন রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব প্রতিক্রিয়া
শি জিনপিংয়ের এই সফর পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফরের মাধ্যমে রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছে। চীনের পক্ষ থেকেও এই সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সফরের কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে এখন কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
(আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন কথা নিউজ ২৪-এর আপডেট প্রতিবেদনে)



