Saturday, August 8, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যআলমডাঙ্গায় মাদককাণ্ডে ক্ষোভ,হাতেনাতে আটকের দাবি, পুলিশের ভাষ্য—আগেই পালিয়েছে অভিযুক্ত;

আলমডাঙ্গায় মাদককাণ্ডে ক্ষোভ,হাতেনাতে আটকের দাবি, পুলিশের ভাষ্য—আগেই পালিয়েছে অভিযুক্ত;

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মাদারহুদা গ্রামে কথিত এক মাদক কারবারিকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে আটকের দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি ও পুলিশের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার মাদারহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাসেল নামে এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রথমে আলমগীর নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। তাদের দাবি, আলমগীরের কাছে পাঁচটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই ট্যাবলেট রাসেলের কাছ থেকে কিনেছেন বলে জানান। এরপর রাসেল ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয়রা তাকেও আটক করে পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় যুবক মো. রনি আহমেদ বলেন, “আমরা ফুটবল খেলছিলাম। পরে আলমগীর নামে একজনকে আটক করি। সে জানায়, রাসেলের কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল কিনেছে। এরপর রাসেলকে ধরে পুলিশে খবর দিই। উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ট্যাবলেট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু পরে অভিযুক্তদের আর আটক করা হয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক সেনাসদস্য মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গ্রামে কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া যাবে না। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হোক।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মাদকের কারণে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। আজ যারা ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় পুলিশ।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, “আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মানিক ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “স্থানীয়রা যে ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে, সেটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই, অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগও জরুরি। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine
Google search engine

Most Popular

Recent Comments