
আলতাফ হোসেন :তরুণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের লক্ষে লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার-২০২৬’। জেলার শীর্ষস্থানীয় ২০ টি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় তিনশত চাকরিপ্রার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
সকাল ৯টা থেকে মেলার মূল ফটক উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সদ্য স্নাতক পাস করা তরুণ-তরুণী এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিতে ভিড় জমান।সকাল ১১ টায় ফিতা কেটে এবং বেলুন উত্তলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরুহয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরাফাত হোসেন,সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ ম্যাজিষ্টেট,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোপিরেট এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃশরীফ হোসেন,বিশেষ অতিথি ব্যবস্থাপক,(কার্যক্রম) ও উপ প্রকল্পসমন্ময়কারী,পিকেএসএফ মোঃ গোলাম জিলানী, বিশেষ অতিথি আনজুমান আরা বেগম, বিশেষ অতিথি অধ্যক্ষ,লক্ষ্মীপুর সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন, বিশেষ অতিথিসহকারী পরিচালক,প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড,লক্ষ্মীপুর খুরশীদ আলম উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেনঅধ্যাপক ড.এম মোসলেহ্ উদ্দিন প্রতিষ্ঠতা ও প্রধানি উপদেষ্টা,সোপিরেট।মেলায় অংশগ্রহণকারী খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার (IT)
বিডি জবস,প্রেস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
এবারের জব ফেয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ‘অন-স্পট ইন্টারভিউ’। অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু সিভি জমা নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে মেলা প্রাঙ্গণেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। এতে করে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে মেলা চলাকালীনই চূড়ান্ত বা প্রাথমিক নিয়োগপত্র প্রদান করতে দেখা গেছে। শুধু চাকরি খোঁজার মাঝেই মেলাটি সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণদের কর্পোরেট জগতের জন্য প্রস্তুত করতে মেলায় দিনব্যাপী বেশ কয়েকটি সেমিনার আয়োজন করা হয়।
”বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সফট স্কিল, যেমন—কমিউনিকেশন, প্রবলেম সলভিং এবং টিমওয়ার্কের ওপর নিয়োগকর্তারা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।”বিশেষজ্ঞরা সিভির আধুনিক ফরম্যাট তৈরি, ইন্টারভিউ বোর্ডে করণীয় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা (Future Skills) অর্জনের বিষয়ে তরুণদের দিকনির্দেশনা দেন। মেলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন উভয় পক্ষই। মেলায় আসা এক চাকরিপ্রার্থী মীম জানান, “এক ছাদের নিচে এত বড় বড় কোম্পানির মুখোমুখি হওয়া এবং সিভি দেওয়ার সুযোগ আমাদের মতো চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অনেক বড় বিষয়।” অন্যদিকে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই মেলার মাধ্যমে তারা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম, দক্ষ এবং প্রতিভাবান তরুণদের একটি বড় ডেটাবেজ তৈরি করতে পেরেছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। সোপিরেট এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃশরীফ হোসেন বলেন জেলার বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদকে সঠিক স্থানে কাজে লাগানোর জন্য এ ধরনের জব ফেয়ার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি একদিকে যেমন যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, অন্যদিকে সঠিক কর্মী খুঁজে পেতে শিল্প মালিকদের সময় ও শ্রম বাঁচায়। সার্বিকভাবে, মেলাটি তরুণদের মাঝে নতুন কর্মোদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে



