গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ করা হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন প্লট ও ফ্ল্যাটের নামজারি এবং রেকর্ডভুক্তকরণ প্রক্রিয়া। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কেবল দাখিল করা দলিলাদি ও প্রমাণপত্র যাচাই করেই আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে, তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হাজিরা নিতে পারবে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজউক সূত্রে এই নতুন নির্দেশনার বিষয়টি জানা যায়। রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা বদলের ক্ষেত্রে। এখন থেকে উত্তরাধিকারীদের আদালতের দেওয়া সাকসেশন বা উত্তরাধিকার সনদের প্রয়োজন হবে না। এর পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার সনদই যথেষ্ট হবে। তবে রাজউক কর্তৃপক্ষ必要 মনে করলে সনদটির সঠিকতা যাচাই করতে পারবে।
নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যেকোনো একজন আবেদন করলেই সবার নামে রেকর্ডভুক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এজন্য সব উত্তরাধিকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরাধিকার সনদে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর উল্লেখ থাকা বাঞ্ছনীয়।
একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে যদি মূল বরাদ্দগ্রহীতা লিজ দলিল সম্পাদনের আগেই মারা যান। সেক্ষেত্রে সংশোধিত বরাদ্দপত্র ইস্যু করার ক্ষেত্রেও স্থানীয় সরকারের সনদই যথেষ্ট হবে।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আবেদনকারী বা সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কোনো তথ্যে ভুল থাকলে তার দায় তাদেরই বহন করতে হবে এবং এর ভিত্তিতে করা নামজারি বা রেকর্ডভুক্তকরণ বাতিল বলে গণ্য হবে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো জটিলতার জন্য রাজউকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী থাকবেন না। তবে নামজারির জন্য নির্ধারিত সেবামূল্য ও পরিশোধের পদ্ধতি আগের মতোই থাকছে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে ভূমির মালিকানা হালনাগাদ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজউক তার প্রকল্প এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাটের নামজারির জন্য অনাপত্তিপত্র দিয়ে থাকে।



